জম্মু-কাশ্মীর প্রদেশ ভেঙে জম্মু ও কাশ্মীর দুটো প্রদেশ গঠন

বিদেশ

সোমবার রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তথা স্বায়ত্বশাসনের ৩৭০ ধারা বাতিল এবং রাজ্যটিকে দুই ভাগ করে পুনর্গঠনের বিল পাস হয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় রাজ্যসভায়। জম্মু ও কাশ্মীর আগে একটি প্রদেশ ছিল। এখন সেটি ভেঙে জম্মু ও কাশ্মীর  নামে দুটি প্রদেশ করা হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীরে যোগযোগ, ইন্টারনেট, মোবাইল সেবা বন্ধ করে এক নজিরবিহীন ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।

মর্যাদা খর্ব করে কাশ্মীরিদের অধিকারহরণের এই বিল পাস হবার পর বিরূপ পরিস্থিতির আশঙ্কায় পুরো অঞ্চল জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন। সেখানে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। অনেক রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজও বন্ধ রয়েছে। প্রায় সব মুসলিম রাজনীতিবিদকে হয় গৃহবন্দি নয়তো আটক করা হয়েছে।

দেশ বিভাগের পর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যটিকে ভারতের প্রতি অনুগত রাখতে জওহর লাল নেহেরুর উদ্যোগে ৩৭০ ধারায় যে মর্যাদা দেয়া হয়েছিল তা বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস।

এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতের এমন উদ্যোগের নিন্দা জানিয়ে কাশ্মীরিদের প্রতি নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। পাকিস্তানের সংসদে জরুরি অধিবেশন ডাকা হয়েছে। পাকিস্তানে সংযুক্ত আজাদ কাশ্মীরে সব দলের রাজনৈতিক নেতারা ভারতের এ উদ্যোগের নিন্দা জানিয়ে কাশ্মীরের সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।

এছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আব্দুল্লাহসহ বহু রাজনীতিবিদকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। গৃহবন্দি হওয়ার আগে তারা রাষ্ট্রপতির এমন আদেশ এবং রাজ্যভাগের দিনটিকে কালো দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেছেন, বিজেপি সরকারের এমন ভয়াবহ সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলকে বারুদপুরীতে পরিণত করবে। এ এলাকায় তরুণ-তরুণীরা হতাশ, ক্ষুব্ধ হয়ে বিধ্বংসী হতে পারেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, কাশ্মীরের স্থানীয় রাজনীতিকদের কোনো প্রভাব থাকবে না বিক্ষুব্ধ জনগণের ওপর।

তথ্যসূত্র : বিবিসি