রায়পুরে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে নারীসহ ৩ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে ছাত্রলীগ নেতা

দেশ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে নারীসহ ৩ জনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ছাএলীগের মিনহাজ হাসান ইপ্তি নামের এক নেতার বিরুদ্ধে। 

বুধবার (১৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের পাটোয়ারী রাস্তা নামক যায়গায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। 

অভিযুক্ত মিনহাজ হাসান ইপ্তি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও সোনাপুর ইউপি চেয়ারম্যান-এর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোনাপুর ইউনিয়নের নূর হোসেন পাটোয়ারী রাস্তার মাথার 'আল্লার দান' কনফেকশনারীতে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবসা করে আসছেন। বুধবার (১৮ অক্টোবর) রাত্রে স্থানীয় চেয়ারম্যান ইউসুফ জালাল কিসমত-এর ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মিনহাজ হাসান ইপ্তি এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ও চাঁদা দেওয়ার আগে দোকান না খোলার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু নূর হোসেন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইপ্তি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। 

পরে বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে নূর হোসেন দোকান খুলতে গেলে ইপ্তি ও তার লোকজন নূর হোসেনের উপর হামলা চালায়। এ খবর পেয়ে নূর হোসেনের চাচা সালেহ্ আহম্মদ এগিয়ে আসলে তাকে ও রড ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। 

পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতাল নেওয়ার পথে সিএনজি'তে ভাংচুর করে ও সালেহ্ আহম্মদের স্ত্রী খুরশিদা বেগম'কে মারধর করে। এ সময় খুরশিদা বেগমের গলায় থাকা সোনার চেইন ও ৩ টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। সৃষ্ট এই ঘটনা কাউকে জানালে বা মামলা করলে তাদের'কে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় ইপ্তি। 

এ বিষয়ে মিনহাজ হাসান ইপ্তি'র সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

উক্ত ঘটনা সম্পর্কে ইপ্তি'র বাবা ও ইউপি চেয়ারম্যান কিসমত জানান, সৃষ্ট ঘটনার বিবরণ জানার পরে আমি হাসপাতাল গিয়েছি। তবে চাঁদা দাবির কথা অস্বীকার করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি হয়েছে। রড দিয়ে পিটিয়ে যখম করার কথা সত্য নয়।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। চাঁদা দাবির কথা কেউ বলেনি। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ঢাকা, অক্টোবর ১৯(দ্য ভয়েস অফ বাংলা)/এএইচ