লক্ষ্মীপুরে ডেকোরেটর ব্যবসায়ী নূর নবী হত্যার রহস্য উন্মোচন

দেশ

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার পৌর শহরে গভীর রাতে নূর নবী (৩৮) নামের এক ডেকোরেটর ব্যবসায়ীকে হাত-পা বেঁধে গলা কেটে হত্যার ঘটনার প্রায় ১ মাস পর হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে রায়পুর থানা পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত  প্রধান আসামি বাড়ীওয়ালার গৃহকর্মী আঁখি খাতুন (১৯) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত অাঁখি সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার পূর্ব দিঘলী লালমিয়া দরবেশ বাড়ীর ইট ভাটার শ্রমিক তোতা মিয়ার মেয়ে।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া জানান, ডেকোরেটর ব্যবসায়ী নূর নবী ও আঁখি খাতুনের মাঝে অনৈতিক সম্পর্ক এবং আর্থিক লেনদেনে গরমিল হওয়ায় ক্ষুব্দ হয়ে অাঁখি তিন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এ মামলায় আঁখি খাতুন, সেলুন মালিক বাবুল শীল এবং  কর্মচারী ইব্রাহিম বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন।

উল্লেখ্য যে গত ৬ জুলাই রাতে রায়পুর -চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে রায়পুর পৌর শহরের মোহাম্মদীয়া হোটেল সংলগ্ন আমিন কমপ্লেক্সের মালিক সাবেক স্যানেটারি ইন্সপেক্টর শামছু উদ্দিনের পরিত্যাক্ত ঘরে এ মর্মান্তিক হত্যার ঘটনা ঘটে। জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে বাড়ীর মালিক শামছু উদ্দিন তার ঢাকায় বসবাস করা মেয়ের মাধ্যমে আঁখি খাতুনকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন। আঁখি খাতুনের বাসা সংলগ্ন মার্কেটের ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের আমিন উদ্দিন তফদার বাড়ীর মৃত ইউনুস মিয়ার ছেলে নূর নবীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। ঘটনার রাতে আর্থিক লেনদেন নিয়ে কথা কাটা-কাটির এক পর্যায়ে তিন পুরুষ সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নূর নবী'কে বটি (দা) দিয়ে জবাই করে হত্যা করে আঁখি খাতুন। এ ঘটনায় নিহত নূর নবী স্ত্রী পিয়ার বেগম অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন, (মামলা নং-০৬, তারিখ- ১০/০৭/১৭)।

মামলা পরবর্তী কালে  পুলিশ তদন্তে হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে পূর্ব কেরোয়া গ্রামের প্রাণেস্বর শীলের ছেলে ও ষ্ট্যান্ডার্ড সেলুনের মালিক বাবলু শীল (৩২) ও পশ্চিম চরপাতা গ্রামের আবুল হাশেসের ছেলে ইব্রাহিম (২১) কে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় রায়পুর থানা পুলিশ।  তদন্তে গৃহকর্মী আঁখি খাতুনের এ হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় তাকে বৃহস্পতিবার (৩ আগষ্ট) বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে অপর আসামীদের নাম জানানো হয়নি।

রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, তদন্তে গৃহকর্মী আঁখির সম্পৃক্ত থাকায় তাকে প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার সাথে ৩/৪ জন সহযোগীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আসামীদের নাম বলা যাচ্ছে না। অতি দ্রুত হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রহস্য উন্মোচিত করা হবে।

 

দ্য ভয়েস অফ বাংলা/এএইচ/৪ঠা অাগস্ট