মিন্নির বাবা-মাকেও গ্রেফতারের দাবী রিফাতের বাবার!

দেশ

বরগুনা, ২৬ জুলাই- বরগুনায় সড়কে প্রকাশ্যে কুপিয়ে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার প্রধান সাক্ষী ও তার তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি গ্রেফতার করা হয়েছে আগেই। এবার মিন্নির বাবা-মাকেও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ।

শুক্রবার দুপুরে বরগুনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় নিহত রিফাত শরীফের চাচা আবদুল আজিজ শরীফসহ পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

দুলাল শরীফ বলেন, আমার ছেলেকে হত্যার পেছনে মিন্নিই ষড়যন্ত্র করেছে। এর আগে এসআই আসাদ, ওবায়দুল ও এএসআই সোহেল খান, নয়ন বন্ড ও মিন্নি চলতি বছরের ১১ মে আমার ছেলেকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে জেলহাজতে পাঠায়। তিনি মিন্নির বাবা-মাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিও জানিয়েছেন।

রিফাত হত্যার তদন্তে সন্তোষ প্রকাশ করে দুলাল শরীফ বলেন, রিফাত হত্যাকাণ্ডের তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই মিন্নির বাবা পিবিআই ও সিআইডির তদন্ত দাবি করছেন। তিনি বলেন, ‘মামলার বাদী হিসেবে আমি মনে করি তদন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হচ্ছে। কিন্তু আসামিরা মামলাকে ভিন্ন খাতে নিতে পিবিআই ও সিআইডির তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। এটি কোনোভাবেই মানা যায় না যে মামলার আসামি হয়ে মামলার তদন্ত পরিবর্তনের দাবি জানায়। এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো ষড়যন্ত্র আছে। আমি পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট।’

লিখিত বক্তব্যে দুলাল শরীফ আরও বলেন, ‘আমার ছেলে শাহনেওয়ার রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ১৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৫ আসামিই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার সামগ্রিক কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এগিয়ে চললেও প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এক পক্ষ।’

প্রসঙ্গত এর আগে গত ২৪ জুলাই মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের কাছ থেকে মামলাটিকে পিবিআই তদন্তের দাবি জানান।

তিনি বলেন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে পুলিশ মিন্নির জবানবন্দি নিয়েছে। প্রভাবশালী মহলকে বাঁচাতে পুলিশ এ ঘটনায় মিন্নিকে ফাঁসাচ্ছে। তাই এ মামলার তদন্ত পিবিআইতে স্থানান্তরের দাবি জানাচ্ছি।

মিন্নি স্বামী রিফাতকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে দাবি করে মোজাম্মেল হক বলেন, আপনারা সবাই ভিডিও ফুটেজে দেখেছেন রিফাতকে বাঁচাতে মিন্নি জীবনবাজি রেখেছে। শত চেষ্টা করেও তাকে রক্ষা করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

 

ভয়েস অফ বাংলা/ এএইচ