রেলমন্ত্রীর জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেনে নতুন এসি বগি

দেশ

মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনে লাগানো হল এসি বগি, আর তাতে চড়েই ক্যাম্পাসে গেলেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

চট্টগ্রাম নগরী থেকে ২২ কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের চলাচলের অন্যতম প্রধান বাহন শাটল ট্রেনের জীর্ণ দশা দীর্ঘদিন ধরে। সেই চিত্র পাল্টে যায় বুধবার রেলমন্ত্রী আগমনে।

মন্ত্রীকে বহনকারী শাটলটিতে লাগানো হয় দুটি এসি বগি এবং একটি নতুন পাওয়ার কার। সকাল থেকে রেললাইনে পাথর ফেলা এবং সাময়িক সংস্কার কাজও চলে।

সেই এসি বগিতে চড়ে ট্রেনে বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রার অভিজ্ঞতা নেন রেলমন্ত্রী সুজন।

বুধবার বেলা ২টা ৫০ মিনিটে নগরীর বটতলী স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেয় মন্ত্রীকে বহনকারী শাটল। তার সঙ্গে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় রেল স্টেশনে নেমে মন্ত্রী শাটল ট্রেনের বগি পরিদর্শন করেন। তিনি ট্রেনে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা করেন।

পরে রেলমন্ত্রী উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনায় বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে, শাটল ট্রেন চলাচলের সম্পূর্ণ লাইনই ঝুঁকিপূর্ণ। রেললাইন সংস্কারের প্রয়োজন আছে। এখানে চিফ ইঞ্জিনিয়ার আছেন, ডিজি সাহেবও দেখেছেন। এটা সংস্কারে সময়ের প্রয়োজন আছে। রেললাইনের যে নিরাপত্তা পাওয়ার সুযোগ আছে সেটা আপনাদেরকে দেব।"

আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন টিপু শাটল ট্রেনের বগি আধুনিকায়ন, রেলস্টেশনে ডাবল ছাউনি নির্মাণ, বগি বাড়ানোর দাবি জানান।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমদ ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, “আগামী জুন মাসে আমরা রেলওয়েতে দুইশ নতুন কোচ সংযুক্ত হবে। আমরা চেষ্টা করবো এখানে নতুন একটি শাটল ট্রেন দিতে, যেখানে নতুন ১৫-১৬টি আধুনিক বগি থাকবে। বগিগুলোতে চেয়ার কোচ এবং পাখা থাকবে। শিক্ষকদের জন্য এসি বগি রাখা হবে।”

উপাচার্য ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা শেষে মন্ত্রী বিকাল সাড়ে ৫টার শাটলে চড়ে নগরীতে ফিরেন।

 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার।

নগরী থেকে ক্যাম্পাসের পথে চলাচলকারী শাটলের বেশিরভাগ বগিতেই লাইট ও পাখা নেই। জানালা ভাঙা হওয়ায় ধুলোবালি ঢোকে অবাধে। চলন্ত ট্রেনে রাতে আর্বজনা ও পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে নিয়মিত।

বেহাল শাটলের সংস্কার দাবিতে বেশ কয়েক বছর ধরে  বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন আন্দোলন করেও কোনো সুফল পায়নি।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে এক জোড়া শাটল সাতবার এবং একটি ডেমু ট্রেন দুইবার আসা-যাওয়া করে।

 

ভয়েস অফ বাংলা/ এএইচ